সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা সাঈদী রহ. বিশ্বখ্যাত একজন ইসলামিক স্কলার ও রাজনীতিবিদ। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ছিলেন। জালিমদের শত অত্যাচারে তিনি ছিলেন অবিচল।
জীবনের শেষ ১৩ টি বছর তিনি বহুকষ্টে কারাগারে কাটিয়েছেন। তবুও জালিমদের কোনো ফাঁদে পা দেননি। জালিমের বশ্যতা স্বীকার করেননি। তিনি একাধারে আলেম, ইসলাম প্রচারক, লেখক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী ও সংসদ সদস্য ছিলেন।
বাংলাদেশের শীর্ষ জনপ্রিয় নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁর জনপ্রিয়তা ধর্ম, রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্র সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। হাসিনা সরকার তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
জন্ম ও শিক্ষা
শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৪০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানীর বালিপাড়া ইউনিয়নের সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইউসুফ সাঈদী একজন আলেম, শিক্ষক ও ধর্ম প্রচারক ছিলেন।
তিনি ছারছিনা আলিয়া মাদরাসা ও খুলনা আলিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি তাফসির শাস্ত্রে কামিল পাশ করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি ইসলাম প্রচারের সাথে যুক্ত হন।
আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষ করার পর তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, মনোবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন মতাদর্শ ও ভাষার ওপর বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা করেন।
পারিবারিক জীবন
আল্লামা সাঈদী রহ. ১৯৬০ সালে বেগম সালেহা সাঈদীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ৪ সন্তান: রাফীক বিন সাঈদী, শামীম বিন সাঈদী, মাসুদ বিন সাঈদী ও নাসিম বিন সাঈদী। ১ম সন্তান রাফীক বিন সাঈদী ২০১২ সালের ১৩ জুন ইন্তেকাল করেন।
পেশাগত জীবন
পেশাগত জীবনে আল্লামা সাঈদী ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত শিক্ষক ও শক্তিমান লেখক। তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা ৭৭ টি। তাঁর লেখনী সমাজ সংস্কারে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।
সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক জীবন
সাংগঠনিক দায়িত্ব
- সত্তরের দশক থেকে ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত।
- ১৯৭৯: জামায়াতের রুকন হিসেবে শপথ গ্রহণ।
- ১৯৮৯: কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য নির্বাচিত।
- ১৯৯৬: কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হন।
- ১৯৯৮: কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত।
- ২০০৯ - মৃত্যু পর্যন্ত: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর।
সংসদীয় অবদান
পিরোজপুর-১ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন (এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়া সত্ত্বেও)।
- সংসদে স্পিকারের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে ঢোকার শিরকি রীতি তাঁর প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়।
- জামায়াতের পার্লামেন্টারি পার্টির ডেপুটি লিডার।
- ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান।
- কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (২০০৬) বিল উত্থাপন, যার ফলশ্রুতিতে দাওরায়ে হাদীস স্বীকৃতি পায়।
গণ-আন্দোলনে ভূমিকা
মশাল টাওয়ার বিরোধী আন্দোলন (১৯৮৫)
সাফ গেমস উপলক্ষে নির্মিত চব্বিশ ঘন্টা প্রজ্জলিত ‘মশাল টাওয়ার’ বা আগুন পূজার বিরুদ্ধে তিনি প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর এক সপ্তাহের আল্টিমেটামে সরকার তা ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়।
স্বৈরাচার বিরোধী ভূমিকা
১৯৮৯-৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৪ সালের কেয়ারটেকার আন্দোলন এবং ১৯৯৮ সালের পার্বত্য কালো চুক্তির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক বজ্রকণ্ঠ।
দাওয়াতী কাজ (দা’ঈ ইলাল্লাহ)
১৯৬৭ সাল থেকে তিনি “দা’ঈ ইলাল্লাহ” হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন। পৃথিবীর অর্ধশতেরও বেশি দেশে আমন্ত্রিত হয়ে ইসলামের সু-মহান আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। তাঁর জাদুকরী ও হৃদয়স্পর্শী দাওয়াতে সহস্রাধিক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়েছেন।
ঐতিহাসিক তাফসীর মাহফিলসমূহ
চট্টগ্রাম প্যারেড গ্রাউন্ড
প্রতি বছর ৫ দিন করে দীর্ঘ ২৯ বছর। পবিত্র কাবা শরীফের ইমাম দু’বার প্রধান অতিথি ছিলেন।
খুলনা সার্কিট হাউজ
শহরের বিভিন্ন মাঠে প্রতি বছর ২ দিন করে দীর্ঘ ৩৮ বছর তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা
প্রতি বছর ৩ দিন করে দীর্ঘ ৩৩ বছর যাবৎ তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী সরকারী মাদ্রাসা
প্রতি বছর ৩ দিন করে দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা পল্টন ও কমলাপুর
প্রতি বছর ৩ দিন করে দীর্ঘ ৩৪ বছর যাবৎ তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লা ও বগুড়া
কুমিল্লায় দীর্ঘ ৩১ বছর এবং বগুড়ায় ২৫ বছর যাবৎ তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আল্লামা সাঈদীর ভূমিকা
আল্লামা সাঈদী হজ্জ, ওমরা, কুরআনের তাফসীর মাহফিল, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও বিদেশে বাঙ্গালী কমিউনিটির সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন। এসব সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবেও আমন্ত্রিত হয়েছেন।
১৯৭৮ - ১৯৮৩ মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক শান্তি মিশন
- ১৯৭৮: ইংল্যান্ড বার্মিংহাম গ্রেট হলে আন্তর্জাতিক সীরাত মাহফিলে বক্তব্য। মদীনা ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরের আমন্ত্রণে মদীনা সফর। সৌদি বাদশাহ কর্তৃক গঠিত ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি। প্রধানমন্ত্রী রাশেদ আল মাখতুমের আমন্ত্রণে দুবাই ঈদগাহ ময়দানে তাফসীর পেশ।
- ১৯৭৯-১৯৮০: ইংল্যান্ডের ১২টি রাজ্যে, সুইজারল্যান্ড, হল্যান্ড, এ্যাথেন্স ও ফ্রান্সে কুরআনের তাফসীর পেশ।
- ১৯৮১-১৯৮২: 'রাবেতা আলম আল ইসলামী'-এর আমন্ত্রণে হজ্জ আদায় এবং সংস্থাটির স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে বরণ। পাকিস্তান, নেপাল, ভারত, পূর্ব জার্মানী ও ইউরোপের দেশগুলোতে তাফসীর।
- ১৯৮৩: সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজ্জ। ইরানের প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহ খোমেনীর দাওয়াতে ইরান সফর।
১৯৮৪ - ১৯৮৯ বিশ্বব্যাপী দাওয়াত ও বিবিসি/VOA তে সাক্ষাৎকার
- ১৯৮৪-১৯৮৫: কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, দুবাই, ওমান, সুদান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিংগাপুরে সেমিনারে অংশগ্রহণ।
- ১৯৮৬: ISNA-এর দাওয়াতে আমেরিকার ১২টি অঙ্গরাজ্যে সেমিনার। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও গ্রেট ব্রিটেন সফর। বৃটেন সফরকালে বিবিসি (BBC) বাংলা বিভাগ তাঁর সাক্ষাৎকার প্রচার করে।
- ১৯৮৭: আমেরিকায় ভয়েস অব আমেরিকা (VOA) থেকে সাক্ষাৎকার প্রচার। কানাডায় 'ইন্টারন্যাশনাল মুসলিম এলাইন'-এ অংশগ্রহণ। ১১ বারের মত মাকে নিয়ে হজ্জ আদায় এবং ইতালীসহ ইউরোপ সফর।
- ১৯৮৮-১৯৮৯: পাকিস্তান, কুয়েত, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর।
১৯৯০ - ১৯৯৪ 'আল্লামা' উপাধি ও গ্রান্ড মার্শাল পদক লাভ
- ১৯৯০: প্যারিসে 'ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ব্যাংকিং' সেমিনারে বিশেষ অতিথি। কাতার, কুয়েত ও লন্ডনে ২৫টি সেমিনারে বক্তব্য।
- ১৯৯১: মক্কা শরীফে ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ নিরসনে বিশ্বের ৪০০ স্কলারদের নিয়ে মীমাংসা বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে অংশগ্রহণ। ICNA কর্তৃক প্যানসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটিতে তাঁকে ‘আল্লামা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৯৩: নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে ওয়ার্ল্ড মুসলিম ডে প্যারেড আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্রান্ড মার্শাল’ পদক প্রদান। বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশের স্কলাররা উপস্থিত ছিলেন।
- ১৯৯২-১৯৯৪: আমেরিকা, ইউএই (UAE), ফ্রান্স, কুয়েত ও গ্রেট ব্রিটেনে দাওয়াতি সফর।
১৯৯৫ - ২০০৪ প্রাচ্য-পাশ্চাত্যে বিস্তৃতি ও রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ
- ১৯৯৫-১৯৯৯: ইরান, জাপান, ইতালি, লিবিয়া (জেনারেল পিপলস কংগ্রেস), সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি।
- ২০০০: দুবাই প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে 'দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কোরআন এওয়ার্ড'-এর প্রধান অতিথি। ভিয়েনায় IAEA-এর আমন্ত্রণে অস্ট্রিয়া সফর এবং গ্রীস সফর।
- ২০০১-২০০২: অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্ন ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত সফর।
- ২০০৩-২০০৪: কানাডা সরকারের দাওয়াতে 'ইন্টারন্যাশনাল কমনওয়েলথ পার্লামেন্ট মেম্বারস সম্মেলন'-এ যোগ। আমেরিকার বুলুমস ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার এবং পুনরায় দুবাই কোরআন এওয়ার্ডে প্রধান অতিথি।
২০০৫ - ২০১০ রাজকীয় মেহমান ও আইনি লড়াই
- ২০০৫: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের আমন্ত্রণে সৌদি আরব সফর। গ্রেট ব্রিটেনে 'দি মিডল পাথ' সেমিনারে আহমেদ দিদাত ও ডা. জাকির নায়েকসহ ২৫টি দেশের স্কলারদের সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ।
- ২০০৬-২০০৯: বারবার সৌদি ও দুবাই সরকারের আমন্ত্রণে সফর। ২০০৯ সালে সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ এর আমন্ত্রণে রাজকীয় মেহমান হিসেবে পবিত্র হজ্ব পালন।
- ২০১০: ১৮ বছর ধরে প্রতি রমজানে ওমরাহ পালন করলেও এই বছর সরকার বাধা দেয়। হাইকোর্টে রীট করে তিনি জয়লাভ করেন। এরপর বাদশাহর আমন্ত্রণে হজ্ব সেরে দেশে ফিরলে, ২৯ জুন তাঁকে "ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত" এর হাস্যকর মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর একে একে ১৪টি সাজানো মামলা দায়ের হয়।
আল্লামা সাঈদীকে হত্যা চেষ্টা
১ চাঁপাই নবাবগঞ্জ (১৪ জানুয়ারী, ১৯৭৩)
তাফসীর মাহফিল শেষে তিনি যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেখানে চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে আক্রমন করে।
২ পাবনা (২৯ নভেম্বর, ১৯৭৪)
পুষ্পপাড়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে ঘাতকের গুলিতে আল্লামা সাঈদীর পাশেই থাকা মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুল্লাহ ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। আল্লাহ তায়ালা সে যাত্রায় সাঈদী সাহেবকে রক্ষা করেন।
৩ সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম (২১ অক্টোবর, ১৯৮৬)
বামপন্থী সন্ত্রাসীরা মাহফিলে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি আটকায়। পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করলেও পরে 'উপরের নির্দেশে' ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
৪ পান্থপথ, ঢাকা (২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২)
সীরাতুন্নবী মাহফিলে আলোচনা শুরু করতেই ঘাতকরা ৮/১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, "মৃত্যুকে সাঈদী ভয় পায় না। লাখো জনতার মধ্যে যদি আমি বসে যাই, তবে দাঁড়িয়ে থাকবে কে?"
গ্রেপ্তার, প্রহসনের রায় ও শাহাদাত
প্রহসনের বিচার
কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ২০১০ সালের ২৯ জুন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে সাজানো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে যুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। যদিও বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা সব অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দিয়েছিলেন।
শাহাদাত
১৩ আগস্ট ২০২৩ (রবিবার) সকালে কাশিমপুর কারাগারে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ৮৪ বছর বয়সী আল্লামা সাঈদী রহ.। তাঁর হার্টে পাঁচটি রিং পরানো ছিল এবং তিনি উচ্চ-রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রিতায় সারাদিন পর রাত ১১ টায় তাঁকে পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনা হয়। তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
১৪ আগস্ট রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। ফ্যাসিবাদী সরকার তাঁর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ঢাকায় জানাজা করতে দেয়নি। ১৫ আগস্ট ফজর শেষে পুলিশ হাসপাতালে সমবেত জনতার ওপর টিয়ার শেল ও গুলি নিক্ষেপ করে লাশ ছিনিয়ে পিরোজপুর নিয়ে যায়।
অবশেষে পিরোজপুরে লাখো জনতার উপস্থিতিতে দুটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
"মহান রাব্বুল আলামীন এই মহান দা’ঈকে কবুল করুন, তাঁকে জান্নাতে সুমহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করুন। শুহাদা, সালেহিন, সিদ্দিকিন ও নবীগণের সাথে তাঁকে সম্মানিত করুন। আমিন।"
সামাজিক কাজ ও প্রতিষ্ঠান
আল্লামা সাঈদী রহ. ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাঁর এলাকার সকল মানুষকে আপন করে নিয়েছিলেন। তিনি দেশী বিদেশী বহু সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হয়েছে।